পাক-সৌদি-তুরস্কের সামরিক জোটের বড় পদক্ষেপ! মক্কা চুক্তির অধীনে সৌদিতে তৈরি হচ্ছে যৌথ সচিবালয়, মাথায় পাকিস্তানি
জানা গিয়েছে, এই সচিবালয়ের সদর দফতর হবে সৌদি আরবে। প্রথম তিন বছর সচিবালয়ের দায়িত্বে থাকবেন পাকিস্তানের একজন মহাসচিব। অর্থাৎ, তিন দেশের সামরিক সহযোগিতাকে সমন্বয় করার জন্য এবার একটি স্থায়ী কাঠামো তৈরি হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। সৌদি আরব, পাকিস্তান এবং তুরস্ক নিজেদের যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করতে এবার একটি স্থায়ী সচিবালয় গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মক্কায় স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির অধীনেই এই সচিবালয় তৈরি হবে। সৌদি আরবের বিদেশ মন্ত্রক সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে।
জানা গিয়েছে, এই সচিবালয়ের সদর দফতর হবে সৌদি আরবে। প্রথম তিন বছর সচিবালয়ের দায়িত্বে থাকবেন পাকিস্তানের একজন মহাসচিব। অর্থাৎ, তিন দেশের সামরিক সহযোগিতাকে সমন্বয় করার জন্য এবার একটি স্থায়ী কাঠামো তৈরি হচ্ছে।
এর গুরুত্ব বুঝতে হলে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির দিকে তাকাতে হবে। গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, পাকিস্তান এবং তুরস্ক মক্কায় একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হল তিন দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলা। আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যেই এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
চুক্তির পর থেকেই তিন দেশ সামরিক সহযোগিতাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার পথে এগোচ্ছে। ৩০ আগস্ট তিন দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা চুক্তির প্রথম বৈঠকও করেন। সেখানে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো, তিন দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং একে অপরের সঙ্গে যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা বা ‘ইন্টারঅপারেবিলিটি’ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ উৎপাদনের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে।
নতুন সচিবালয় তৈরি হলে এই সহযোগিতা আরও নিয়মিত ও সংগঠিত হতে পারে। তিন দেশের মধ্যে সামরিক যোগাযোগ বাড়ানো, বৈঠক ও সমন্বয়ের কাজ এগিয়ে নেওয়া এবং প্রতিরক্ষা চুক্তির বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এই কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তবে সচিবালয় ঠিক কীভাবে কাজ করবে, তার পূর্ণ বিবরণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
এই জোটের পিছনে রয়েছে বদলে যাওয়া মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি। সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে একাধিক সংঘাত ও সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ফলে সৌদি আরবের মতো দেশগুলি নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে চাইছে। পাকিস্তানের রয়েছে দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতা। তুরস্কেরও রয়েছে বড় ও শক্তিশালী সেনাবাহিনী এবং উন্নত প্রতিরক্ষা শিল্প। ফলে তিন দেশের সহযোগিতা আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন গুরুত্ব পাচ্ছে।
এদিকে এই প্রতিরক্ষা জোট নিয়ে ‘ইসলামিক ন্যাটো’-র সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ ভবিষ্যতে এই কাঠামোয় আরও দেশ যুক্ত হতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে। সাম্প্রতিক আলোচনায় মিশরের সম্ভাব্য অংশগ্রহণের কথাও উঠে এসেছে। তবে এখনই এটিকে ন্যাটোর সমতুল্য কোনও সামরিক জোট বলা হচ্ছে না।
ভারতের দিক থেকেও এই নতুন সমীকরণ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পাকিস্তান এই জোটের অন্যতম প্রধান সদস্য। অন্যদিকে তুরস্কের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কেও বিভিন্ন সময়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। ফলে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সামরিক সহযোগিতা কতটা গভীর হয়, তা নয়াদিল্লি অবশ্যই নজরে রাখবে।
তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, এই জোট ভবিষ্যতে কতটা বিস্তৃত হবে এবং বাস্তবে কতটা যৌথ সামরিক শক্তি তৈরি করতে পারবে। আপাতত একটি বিষয় স্পষ্ট। মক্কার প্রতিরক্ষা চুক্তি আর শুধু কাগজে-কলমে নেই। তার অধীনে স্থায়ী সচিবালয় গঠনের সিদ্ধান্ত দেখিয়ে দিচ্ছে, তিন দেশ নিজেদের সামরিক সম্পর্ককে আরও কাঠামোবদ্ধ এবং দীর্ঘমেয়াদি করার পথে এগোচ্ছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


